
নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে (ডিআইএফই) শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) পদে মানোন্নয়নকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিশনের আওতাভূক্ত পদে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ ছাড়াই একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে বছরের পর বছর ধরে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ, মানোন্নয়ন ও পদায়নের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের আগে ও পরে মোট ৩৯ জন কর্মকর্তা দোকান ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক পদে নিয়মিত নিয়োগ পান। কিন্তু ২০১৩ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে পিএসসির প্রতিনিধি ছাড়াই বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় আরও ৩৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ওই ৩৭ জন দোকান ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক ১৫ তম গ্রেডে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ৪০ দিনের মধ্যে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়ে শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) পদে পদায়ন পান। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ক্ষেত্রে পিএসসির সুপারিশ, সংশ্লিষ্ট পদে শিক্ষগত যোগ্যতা, শিক্ষানবীশকাল, শূন্যপদ, যোগ্যতা যাচাইসহ সরকারি বিধিমালার একাধিক বাধ্যতামূলক শর্ত উপেক্ষা করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, শুরু থেকেই মানোন্নয়ন প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পিএসসির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সুপারিশ গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি বৈধতা দেওয়ার জন্য ২০১৯ সালে কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হলে পিএসসি প্রস্তাবে অসঙ্গতি খুঁজে পায় এবং তা ফেরত দেয়। পরে একই বিষয়কে ‘পদোন্নতি’ হিসেবে উপস্থাপন করে নতুন করে সুপারিশ চাওয়া হয়।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, কমিশন নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী একাধিক নথি, ব্যাখ্যা এবং আইনি ভিত্তি চাইলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। বিশেষ করে কেন পিএসসির পূর্বানুমোদন ছাড়াই মানোন্নয়ন দেওয়া হয়েছিল—এই প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বিতর্কিত মানোন্নয়নকে বৈধতা দিতে প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এখানে পিএসসি এর শাখা-১২ এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নথিটি অনুমোদনের অপচেষ্ট করছে।
পদোন্নতির জন্য প্রস্তাবিত পরিদর্শকদের এসিআর জালিয়াতি সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক তদন্ত চলমান থাকার পাশাপাশি নিয়োগ ও মানোন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক অভিযোগ, তদন্ত এবং প্রশাসনিক ট্রাইবুন্যালে মামলা নং-১৪/২০২৫ এর কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মতামত ও সুপারিশ উপেক্ষা করে নিয়োগ বা মানোন্নয়ন দেওয়া হলে তা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলাই নয়, রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি:
পিএসসির সুপারিশ ছাড়া কীভাবে মানোন্নয়ন দেওয়া হলো?
নিয়োগের মাত্র ৪০ দিনের মধ্যে ১৫তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার আইনি ভিত্তি কী?
শিক্ষানবীশকাল ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ হয়েছিল কি?
পিএসসি কেন বারবার নথি ও ব্যাখ্যা চেয়েছে?
বিতর্কিত মানোন্নয়ন বৈধ করতে কারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন?

✍️ মন্তব্য লিখুন