অগ্রসর রিপোর্ট : বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অধ্যাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ নামে পরিচিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে, আর সচিব প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সুপ্রিম কোর্ট সচিব সরকারের সিনিয়র সচিবের সমমর্যাদা ও সুবিধাদি পাবেন। সচিবালয় গঠিত হবে একজন সচিবসহ বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে। সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে, অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি। অন্য কোনো আইন বা বিধি থাকলেও এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাবে।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মূল কার্যাবলির মধ্যে থাকবে—বিচার প্রশাসন পরিচালনায় সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা করা, অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান করা, বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। সচিবালয় হাইকোর্ট বিভাগের আওতাধীন সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের সংখ্যা, এখতিয়ার ও গঠন নির্ধারণ করবে।
এছাড়া, বিচার সেবার মানোন্নয়নে গবেষণা পরিচালনা, আন্তর্জাতিক বিচার সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা, এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর দেখভাল করবে এই সচিবালয়।
খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সরকার বা অন্য কোনো সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে। কোনো ব্যক্তি বা সরকারি দপ্তর সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে সচিব বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
বিচার প্রশাসন সংক্রান্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে বলা হয়েছে যে, প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির সমন্বয়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করতে পারবেন, যা বিচার প্রশাসনের নীতি নির্ধারণ ও কৌশল নির্ধারণে কাজ করবে।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বাজেট ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত বাজেট ব্যয়ে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন লাগবে না এবং প্রধান বিচারপতি বাজেট ব্যয়ের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবেন। তবে তিনি প্রয়োজনে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সচিব বা অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন।